১৮ কিমি ভ্যান চালিয়ে মেয়ের লাশ নিয়ে থানায় গেলেন বাবা

7 / 100

সুষ্ঠ বিচারের আশায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ময়নাতদন্তের জন্য ভ্যান চালিয়ে মেয়ের লাশ প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের থানায় পৌঁছে দিয়েছেন এক বাবা। আজ সোমবার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের নির্দেশে লাশ থানায় পৌঁছে দেন তিনি। নিহত ওই গৃহবধূর নাম হোসনেয়ারা খাতুন (১৬)। সে উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল মালেকের মেয়ে।

শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য হোসনেয়ারাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভ্যানচালক আবদুল মালেক। তাঁর অভিযোগ, জামাতাকে মুঠোফোন কিনে না দেওয়ায় তাঁর মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে তাঁর মেয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জামাতা, মেয়ের শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন বাবা।পুলিশ সূত্র জানায়, সাত মাস আগে পাশের বীরকুৎসা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে রানা ইসলামের সঙ্গে কিশোরী হোসনেয়ারা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে রানা ও হোসনেয়ারা একে অপরকে পছন্দ করতেন। কিন্তু বিয়ের পর তিক্ততা শুরু হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য। তবে হোসনেয়ারার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে হোসনেয়ারা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু হোসনেয়ারার পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে মরদেহে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে সময় লেগে যায় পুলিশের।

মরদেহ কেন বাবাকে আনতে হলো, এ প্রশ্নে বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুর রহমান জানান, কোনো বাহন না পাওয়ায় রাতে নিহত গৃহবধূর বাবার ভ্যানে করে মরদেহ থানায় আনা হয়। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন নিহত মেয়ের বাবা। এ নিয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Comment