পরকীয়া প্রেমের বলি হন শ্বাশুড়ি, ৬ টুকরো করে মাটিচাপা দেয় পুত্রবধূ!

7 / 100

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে শ্বাশুড়িকে হত্যার পর ৬ টুকরো করে মাটিচাপা দেয়ার ঘটনায় আটক পুত্রবধু রাশেদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের শিকার মমতাজ বেগমের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর অভিযোগ- রাশেদা বেগম একা এই ঘটনা সংঘটিত করেনি। এই ঘটনার পেছনে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তারা গৃহবধূ রাশেদা বেগমের পরকীয়ার জের ধরেই এই ঘটনা সংঘটন করার আশংকাও করছেন।

সোমবার (১৮ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান। এদিকে ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকালে মমতাজ বেগমের জানাযা ও দাফন শেষ করা হয়েছে। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। নিহতের দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে সেটি মামলা হিসেবে রুজু করা হবে। তিনি জানান, পুলিশ পুরো ঘটনা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।নিহত মমতাজ বেগমের ছেলে আলমগীর জানিয়েছেন, মায়ের এমন লোমহর্ষক মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যরা এখনো হতবিহবল। ময়নাতদন্ত, জানাযা ও দাফনের জন্য এখনো তিনি মামলা করতে পারেননি। তবে পুলিশের সাথে যোগাযোগ রয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির হামজা জানান, মমতাজ বেগমকে হত্যার পর মাথা, দুই পা ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এরপর বাড়ির আঙিনায় গর্ত করে মৃতদেহ মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। যেখানে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে সেখানে ছোট-বড় অনেকগুলো গাছের শিকড় ছিলো। দেখা গেছে, সেই গাছের শিকড়গুলো অভিজ্ঞ লোকজন দ্বারা করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। এতগুলো কাজ নিখুঁতভাবে করা রাশেদা বেগমের পক্ষে অসম্ভব। তাই তার ধারণা, এই হত্যাকান্ডে রাশেদা বেগম ছাড়াও আরও এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

নিহত মমতাজ বেগমের দুই মেয়ে আয়েশা বেগম ও খুরশিদা বেগম জানান, রাশেদা বেগম গোপনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। এমনকি কয়েকবার গর্ভধারণের পরও ভ্রুন নষ্ট করে ফেলেন। তাদের ধারনা, রাশেদা বেগম পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। মায়ের মৃতদেহ উদ্ধারের আগের দিন ওই বাড়িতে বোরকা পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি এসেছিলেন বলেও জানান তারা। হয়তো ওই চক্রটিকে ব্যবহার করে রাশেদা বেগম তাদের মা মমতাজ বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে মৃতদেহ মাটিচাপা দিয়েছেন।

মমতাজ বেগমের নাতি রাসেল জানিয়েছেন, তার মামী রাশেদা বেগমের আচার-ব্যবহার সম্প্রতি অস্বাভাবিক ছিল। এমনকি হত্যার পরও তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে নানী মমতাজ বেগম মেয়ের বাড়িতে গেছেন বলে তাদের জানান। তিনি জানান, তার মামা আলমগীর কয়েকদিন আগে কক্সবাজার শহরে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরিতে যোগদান করেন। শনিবার তার মামা চলে যাওয়ার পর রাশেদা বেগম পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটান। তার ধারণা, মামী হয়তো কোন পরকীয়া প্রেমিকের সাথে সম্পর্কে জড়িত ছিলো। বাড়িতে বিষয়টি দেখে ফেলায় হয়তো মমতাজ বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে নিজের অপকর্ম আড়ালের চেষ্টা চালিয়েছে। পরকীয়ায় জড়িত না থাকলে কোনদিন এত বড় ঘটনা সম্ভব হতো না।

এদিকে সোমবার বিকালে জানাযার পর ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের আহাজারি। নির্মম এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সকল দোষিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, রবিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম উমখালী হাজির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে মাটিচাপা দেয়া মমতাজ বেগমের ৬ টুকরো মৃতদেহ উদ্ধার করে রামু থানা পুলিশ। ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে হত্যার ঘটনায় জড়িত পুত্রবধূ রাশেদা বেগমকে আটক করে পুলিশ।

রাশেদা বেগম কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ছোট চৌধুরী পাড়ার সৈয়দ নুরের মেয়ে। ঘটনার দিন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শ্বাশুড়িকে হত্যার দায় স্বীকার রাশেদা বেগম। আটক রাশেদা হত্যাকান্ডের শিকার মমতাজ বেগমের আপন ভাতিজী। ৩ বছর পূর্বে নিহত মমতাজ বেগমের ছেলে আলমগীরের সাথে রাশেদা বেগমের বিয়ে হয়। এখনো তারা নিঃসন্তান।

Leave a Comment