হাত ফসকে নদীতে তলিয়ে গেলেন শিক্ষিকা স্ত্রী, স্বামীর আহাজারি

 নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় এখনও অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে ভিড় করছে মানুষ। ঘাটে যখনই কোনো ট্রলার ভিড়ছে, স্বজনদের খোঁজে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ।

তাদেরই একজন সোনারগাঁ কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক আবু তাহের। ওই লঞ্চে তিনি ও তার স্ত্রী একসঙ্গে ছিলেন। 

কিন্তু লঞ্চডুবির একপর্যায়ে স্ত্রী হাত ফসকে নদীতে তলিয়ে যান। নিজে সাতরে পারে উঠলেও স্ত্রীকে বাঁচাতে না পেরে কান্নায়, আহাজারিতে ফেটে পড়ছেন তিনি।

নিখোঁজ নারী সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার নাম উম্মে খায়রুন ফাতেমা। ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। 

উম্মে খায়রুনের স্বামী আবু তাহের জানান, সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে খায়রুন ফাতেমা রবিবার সকালে তাকে সঙ্গে করে মুন্সিগঞ্জ পিটিআই-এর সনদ আনার জন্য যাচ্ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে তারা মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে লঞ্চে ওঠেন। পরে দুপুর ২টার দিকে জেলার আল আমিন নগর এলাকায় কয়লা ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

তিনি আরো জানান, লঞ্চটিকে যখন কার্গো জাহাজ ধাক্কা দেয় তখন আমরা একে-অপরের হাত ধরে ছিলাম। কিন্তু লঞ্চটি যখন ডুবে যায় তখন আমরা দুজন নদীতে তলিয়ে যেতে থাকি। আমি তার হাত ধরে ওপরে উঠিয়ে আনতে ব্যর্থ হই। এক সময় সে আমার হাত ফসকে নদীতে ডুবে যায়। নিখোঁজ উম্মে খায়রুনের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

Leave a Comment