স্বামী-ছেলের সঙ্গে মিলে বাবাকে মেরে ফেলেন মেয়ে!

6 / 100

নোয়াখালীর কবিরহাটে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মহিন উদ্দিনকে (৬০) হ”ত্যার ঘটনায় নিহতের মেয়ে, জামাই ও নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১০ মে) ভোররাতে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের সালনা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মো. মাহফুজুর রহমানের ছেলে মো. নুর নবী সুমন (৪০), তার স্ত্রী  শাহিনা আক্তার (৩৭) ও তাদের ছেলে মো. ইউসুফ শামীম (১৮)।

বুধবার (১১ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রথমে বাবাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দেন মেয়ে শাহিনা আক্তার। এরপর পানি থেকে উঠে আসার পর কিল-ঘুষি দেন জামাই নুর নবী ও নাতি ইউসুফ শামীম। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, মানবিকতার অবক্ষয় হয়েছে, যার ফলে এমন জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় মেয়ে বিবি কুলসুম লাভলী চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে। আমরা তাদের রিমান্ড চাইব। আসামিদের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) দীপক জ্যোতি খীসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদরদপ্তর) মো. মোর্তাহীন বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আকরামুল হাসান, কবিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় কবিরহাটে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মেয়ে, জামাই ও নাতির বিরুদ্ধে মো. মহিন উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে।

স্থানীয়রা জানান, মো. মহিন উদ্দিনের বড় মেয়ে শাহিনা আক্তার কবিরহাটে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। শাহিনার স্বামী ও ছেলেরা ঢাকায় পোশাক করাখানায় চাকরি করেন।

ঈদের ছুটিতে তারা বাড়িতে আসার পর ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় শাহিনা ও তার স্বামী সুমন শাহিনার নামে ৫ শতক জমি লিখে দিতে মহিন উদ্দিনকে চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হলে তা নিয়ে বাকবি”তণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বৃদ্ধ মহিন উদ্দিনকে মেয়ে, জামাই ও নাতি মা”রধর করেন। এতে বৃদ্ধ মহিন উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Comment