স্পর্শকাতর স্থানে হাত, মুখে গামছা বেঁধে কলেজছাত্রীকে অপহরণচেষ্টা

বরগুনার পাথরঘাটায় উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে মামলা করার পর এবার একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে মুখে ও গলায় গামছা বেঁধে তিন বখাটের বিরুদ্ধে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রীর চাচা শাহরুন মিয়া ও চাচি উর্মি বেগম তাকে রক্ষা করতে এলে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের মধ্য কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত বখাটে আউয়াল মৃত নুর নবীর ছেলে, ইমরার সিকদার সোবহান সিকদারের ছেলে ও মামুন খান সেলিম খানের ছেলে। তাদের সবার বাড়ি মধ্য কালমেঘা এলাকায়। ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী জানান, গত বছর এসএসসি পরীক্ষার অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেন স্থানীয় ইমরান। এতে সায় না দিলে বিভিন্ন সময়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন।

গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমার ওড়না টেনে নিয়ে গিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।আমার বাবাকে জানালে তিনি ইমরানের পরিবারকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরো বেশি উত্ত্যক্ত করেন। ওই ছাত্রীর বাবা রুহুল আমিন জানান, শনিবার সকাল থেকেই আমি ও আমার স্ত্রী মাঠে কাজ করার জন্য যাই।

সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে ফিরে আসলে আমার ছোট ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। আমার মেয়ের কথা জানতে চাইলে আমাকে বলেন- আউয়াল, ইমরান সিকদার ও মামুন খান মেয়ের মুখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান। এ সময় আমি ও আমার ভাই মেয়েকে বাঁচাতে গেলে আউয়াল লোহার রড দিয়ে আমার ভাই শাহরুনের মাথা আঘাত করেন। আমার ভাইয়ের স্ত্রী উর্মির পেটে লাথি মারেন। বর্তমানে তার অবস্থাও গুরুতর এবং ভাইয়ের মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা বেশি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বলেন, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর চাচার মাথায় ১০টি সেলাই লেগেছে।

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে দুই ঘণ্টা অক্সিজেনের মাধ্যমে সুস্থ করা হয়েছে। তবে গর্ভের সন্তান ঝুঁকিপূর্ণ। কলেজছাত্রীর বাবা আরো জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে গত বছর বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করি। এরপর আমার মেয়েকে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে যাবে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপ করার হুমকি দিলে বিষয়টি লিখিতভাবে পাথরঘাটা কলেজের অধ্যক্ষকে জানাই। বর্তমানে আমি ও আমার সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আউয়াল ও মামুন খানের কাছে জানতে চাইলে তারা মারধরের কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, তাদের সঙ্গে আমাদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। সেই ঘটনা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তবে কলেজছাত্রীকে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা। এ ঘটনায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, এ রকম কোনো ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Comment