স্ত্রী তালাক দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতেই সৎ ছেলেকে হত্যা

7 / 100

স্ত্রী তালাক দেওয়ায় প্রতিশোধ নিতেই সৎ ছেলে শিশু সামিউল ইসলামকে (১০) হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মে) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী।এর আগে মঙ্গলবার রাতে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা ফজলুর রহমান (৩৫) ও অনিতা রানী (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফজলুর রহমান উপজেলার খরণা ইউনিয়নের কলমাচাপড় গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং অনিতা রানী উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে।

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ১০ বছর আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তালাক হয় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়নের সাজাপুর কাগজিপাড়া গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে সালেহা বেগমের। পরে একই গ্রামের কাগজিপাড়া গ্রামের মৃত মুনছুর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের (৩০) সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাদের সংসারে সামিউলের জন্ম হয়। করোনাকালীন সময়ে সামিউলকে সাজাপুর পূর্বপাড়া তালিমুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসায় ভর্তি করেন।

দ্বিতীয় স্বামী জাহাঙ্গীর আলম মাদকসেবী হওয়ায় দেড় মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পরপর সামিউলকে সঙ্গে নিয়ে সালেহা বেগম পরিবহন শ্রমিক ফজলুর রহমানকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তৃতীয় স্বামী ফজলুর রহমান সৎ ছেলে সামিউলকে সহ্য করতে পারতেন না। বিভিন্ন সময় তিনি নির্যাতন করতেন। এর ফলে গত ১১ মে তৃতীয় স্বামী ফজলুর রহমানকে তালাক দেন সালেহা বেগম।

এরপর থেকে প্রতিশোধ নিতে সৎ ছেলে সামিউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ফজলুর রহমান। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার (১৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফজলুর রহমান সামিউলের মাদরাসায় গিয়ে তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু হুজুর মায়ের অনুমতি ছাড়া সামিউলকে দিতে না চাইলে ফজলুর রহমান পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের চেলো গ্রামের মৃত খিরদ চন্দ্র দেবনাথের মেয়ে অনিতা রানীকে (৩৫) মা সাজিয়ে ফোনে ধরিয়ে দেন। এরপর সামিউলকে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মানিকদিপা উত্তরাপাড়া গ্রামের একটি লাউয়ের মাচার বাঁশের সঙ্গে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন স্থানীয়দের দেওয়া খবরে পুলিশ সামিউলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে সামিউলের মা সালেহা বেগম জানান, তালাক দেওয়ার পরও ফজলুর রহমান তার পিছু ছাড়ছিলেন না। আবারও তার সঙ্গে সংসার করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু ছেলেকে ছাড়া সংসার করতে রাজি না হওয়ায় ফজলুর রহমান তাকে হত্যা করেছে।শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় সালেহা বেগম বাদী হয়ে ফজলুর রহমান ও অনিতা রানীকে আসামি করে মামলা করেন। গ্রেফতার দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment