স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে চুলায় দগ্ধ বলে স্বামীর প্রচার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসাদ সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দগ্ধ গৃহবধূর নাম সাদিয়া আক্তার। তিনি উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মো. অপুল সরকারের মেয়ে। গ্রেফতার আসাদ স্থানীয় একই উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের নুরু সরকারের ছেলে। সাদিয়া ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর আসাদের সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভালোই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে যৌতুকের টাকার জন্য সাদিয়াকে চাপ দিচ্ছিলেন আসাদ। বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে না দিলে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেন। টাকা না পেয়ে সাদিয়ার ওপর চলতে থাকে নির্যাতন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাদিয়ার কোলজুড়ে আসে একটি ছেলে সন্তান। তবে জন্মের কয়েক ঘণ্টা পরই ছেলেটি মারা যায়। এরপর যৌতুকের জন্য ফের চাপ দেন আসাদ ও তার পরিবারের লোকজন। সাদিয়ার বাবা বিদেশে থাকলেও দেশে ফিরে বর্তমানে বেকার জীবনযাপন করছেন। বাবার কাছে এত টাকা চাইতে পারবেন না জানালে সাদিয়ার ওপর বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফা নির্যাতন চালান আসাদ। ২৩ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়ায় ভাড়া বাসায় সাদিয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে গ্যাসের চুলা থেকে দগ্ধ হয়েছেন বলে প্রতিবেশীদের কাছে প্রচার করেন তিনি। এরপর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

বিষয়টি এতদিন কেউ না জানলেও বৃহস্পতিবার সকালে বার্ন ইউনিট থেকে একটি ভিডিওবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়েন সাদিয়া। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতাল থেকে সাদিয়ার ছোট বোন নাদিয়া আক্তার জানান, তার বোনকে বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করেছেন আসাদ ও তার পরিবারের লোকজন। তার শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রধান আসামি আসাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Leave a Comment