সীতাকুণ্ডে আহত ও স্বজনদের ফ্রি সেবা দেবে ৩ পরিবহন কোম্পানি

7 / 100

কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এত সময় পার হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত নিহত ৪৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো আহত হয়েছেন ৪ শতাধিক মানুষ। ইতিমধ্যে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে পুরো দেশ। সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন পরিবহন কোম্পানি গুলোও। ইতিমধ্যে ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে আহত ও তাদের স্বজনদের বিনা পয়সায় সেবা দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তিন পরিবহন কোম্পানি। এই তিন কোম্পানি হলো হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক ও শ্যামলী পরিবহন।

আজ সোমবার (৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৩ পরিবহন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজাররা। কুমিল্লা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসানের আবদারে তারা এই সেবা দিতে সম্মতি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। পরিবহনটির জেনারেল ম্যানেজার আহমদ হোসেন ফারুখ জানান, হাইওয়ে পুলিশের ইমরুল ভাই আমাকে রিকুয়েস্ট করেছেন এ বিষয়ে। গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় পরিবহনে ৪/৫ জন মানুষ পরিবহন করতে পারবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মানবিক কারণেই এই সেবা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শ্যামলী পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার এস এম ফারুখ। তবে অবশ্যই তাদের ডকুমেন্টস দেখাতে হবে বলে জানান শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষ।হানিফ এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার শিকার লোকজন ও তাদের স্বজনরা কাউন্টার থেকে এ রুটে চলাচলকারী আমাদের যেকোনো বাসে ফ্রিতে যাতায়াত করতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমরুল হাসান জানান, ‘কনটেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় আমার কাছে মনে হলো, আমি তাদের কাছে একটু সাহায্য চাইতে পারি। তারপর আমি এই তিন পরিবহনের জিএমকে কল করি। সঙ্গে সঙ্গে তারা রাজি হন। ’

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কন্টেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় শ্রমিকসহ অনেকে হতাহত হন। পরবর্তী সময়ে ইউনিট আরও বাড়ানো হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

রেজানুল/সা.এ

Leave a Comment