সিলেট ছাড়তে রেলস্টেশনে মানুষের হিড়িক

7 / 100

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। উজান থেকে আসা ঢলে এই বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের হিড়িক পড়েছে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সিলেট বিভাগে অনেকটা এমন বন্যা হয়েছিল।

শুক্রবার (১৭ জুন) রাতে এমনই চিত্র দেখা যায় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ও কদমতলী বাস স্টেশনে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাস কাউন্টার ও রেল স্টেশনে মানুষের ঢল নেমেছে। যে যেখান থেকেই পারছেন, যেভাবে পারছেন সিলেট ছাড়ছেন। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওযায় ৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী সিলেট ত্যাগ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হাওয়ার কারণে ওই এলাকার লোকেরা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টার ও রেল স্টেশনে ভিড় করতেছে। কথা হয় ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হওয়া রেলওয়ে স্টেশনে আসা রফিকুল হক নামের এক যাত্রীর সাথে। তিনি বলেন, সিলেট বন্যার পরিস্থিতি খারাপের দিকে ধাবাতি হচ্ছে। এর জন্য বাড়িতে চলে যাচ্ছি। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সিলেটে ফিরবো।

নরসিংদীগামী আবুল কাসেম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সিলেটে কাপড়ের ব্যবসা করে আসছি। এলাকা ছেড়ে পরিবার নিয়ে সিলেটে বসবাস করতাম। তবে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হওয়ায় দোকানপাট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, তাই একটু স্বস্তির জন্য বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

এদিকে, গতরাত থেকে সিলেটে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে ও বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এতে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নগর এলাকারও প্রায় অধিকাংশ স্থান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সেসব স্থানে বিভিন্নভাবে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন তারা।

Leave a Comment