যে কারণে ৫০ লাখ রুপির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শচীন!

১৯৯৫ সালে যখন শচীন অঞ্জলির বিয়ে হয়। তখান ভারতের এক নামকরা মিডিয়া টেন্ডুলকরকে অফার দিয়েছিল বিয়ের ইভেন্ট সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য তাঁকে ৫০ লাখ রুপি দেয়া হবে। কিন্তু শচীন সে প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। সে সময় শচীনের সহকর্মী বিনোদ কাম্বলি, সৌরভ গাঙ্গুলি, যুবরাজ সিং, রাহুল দ্রাবিড়রা তাঁকে বলেছিলেন কেন তিনি এমন বিশাল অফার প্রত্যাখ্যান করছেন!! জবাবে ‘The God of cricket’ বলেছিলেন, বিশ্বব্যাপী বিয়ে সম্প্রচার করার শখ আমার নেই। আমি ব্যক্তিজীবনে ভীষণ সিম্পল একজন মানুষ। সেদিন ভুল বলেননি ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’।

ব্যক্তিজীবনে শচীন অত্যন্ত সাদামাটা একজন। যিনি ক্রিকেটের জিনিয়াস হয়েও মা রজনী টেন্ডুলকরকে নিয়ে মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে পুরনো কাঁচাবাজারে শাকসবজি কিনতে গিয়েছেন। যা তিনি ছোটবেলায় প্রায়ই করতেন। ওই বাজারে তাঁর বাবা রমেশ তরি তরকারি কিনতেন। দোকানদারেরা শচীনকে সশরীরে দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অনেকে ছুটে এসে শচীনকে প্রণাম করতে লাগলো। ইচ্ছে করেই সিকিউরিটি গার্ডদের দূরে রেখেছিলেন শচীন। সেদিন কোনোমতে বাজার থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ তাঁর ভক্তদের প্রচন্ড ভিড় জমে গিয়েছিল আশপাশে।

স্ত্রী অঞ্জলি মেহতা শচীনের চেয়ে ছয় বছরের বড়। এটাকে শচীন তাঁর জীবনের আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন। ক্যারিয়ারের চড়াই উৎরাই সময়ে অঞ্জলি শচীনের পাশে ছায়ার মত থেকেছেন। ১৯৯৪ সালে তাঁরা আংটি বদল পর্ব শেষ করেন নিউজিল্যান্ডে। তার এক বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৫ মে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময় তাঁদের বিয়ে যাতে সরাসরি সম্প্রসারণ করা হয় তার জন্য একটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম শচীনের পরিবারকে পঞ্চাশ লক্ষ রুপি দেয়ার প্রস্তাবকে বিয়ের মত এমন পবিত্র বন্ধনের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি মেনে নিতে পারেননি শচীন। তিনি সরাসরি ‘না’ করে দেন।

অঞ্জলি মেহতা পেশায় শিশু বিশেষজ্ঞ। সারা এবং অর্জুন নামে দুই ছেলেমেয়ে আছে এই দম্পতির। সারা’র বয়স পঁচিশ অর্জুনের বয়স তেইশ। নীতিন, অজিত, সবিতা নামে শচীনের বড় তিন ভাইবোন আছেন। ভাইবোনদের ভীষণ আদরের শচীন। যদিও তাঁরা একই মায়ের গর্ভের নন। শচীনের বাবা রমেশের প্রথম স্ত্রী তিন সন্তান রেখে মারা যান। এরপর রমেশ দ্বিতীয় বিয়ে করেন শচীনের মা রজনীকে। রজনী তাঁর স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানদের কখনো বুঝতে দেননি তিনি তাদের সৎমা।

Leave a Comment