মেহেরপুরে পিয়াজ চাষিদের প্রণোদনার টাকা লুটের অভিযোগ

7 / 100

মেহেরপুর সদর উপজেলায় কৃষকদের গ্রীস্মকালীণ পিয়াজ চাষের প্রণোদনার ১২ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পিয়াজ খ্যাত মেহেরপুরে গ্রীস্মকালিন পিয়াজ চাষ বৃদ্ধির জন্য সদর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ১২০ জন কৃষককে এ প্রণোদনার টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু ৫ টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বৃহৎ পিয়াজ চাষিদের কাছে ঘুরে জানা যায় এ ধরনের প্রণোদনার সম্পর্কে খবর কৃষকরা পাইনি।

কৃষকদের অভিযোগ একেকজন কৃষক প্রতি বিঘা পিয়াজ চাষের জন্য প্রণোদনা বাবদ ৮ হাজার ৭৭০ টাকা করে পাওয়ার কথা। কিন্তু উপজেলার কোনো চাষিকেই এই টাকা দেওয়া হয়নি। এ টাকা দিলে মেহেরপুরে এবার পিয়াজ চাষে কৃষকদের যে লোকসান হয়েছে তা কাটিয়ে উঠেতো পারতেন তারা।

সদর উপজেলার শুভরাজপুর গ্রামের কৃষক ওমর আলী বলেন, অমি এবার ২৫ বিঘা জমিতে গ্রীস্মকালীন পিয়াজ চাষ করেছি। এবার পিয়াজের দাম কম থাকায় বিঘা প্রতি ৮/৯ হাজার টাকা লোকশান হয়েছে। সরকারি এ প্রণোদনা পেলে আমরা কিছুটা লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারতাম।
সদর উপজেলা ইছাখালি গ্রামের চাষি গোলাম ফারুক বলেন, গ্রীস্মকালিন পিয়াজ চাষিদের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যে প্রণোদনার সার বীজ কৃষকরা পাচ্ছেনা। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিধিদের সমন্বয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, কৃষকদের প্রণোদনা আনতে খরচ হয়। তাই কিছু ব্যায় হয়, একারণে কৃষকরা কিছু টাকা কম পেয়ে থাকতে পারে। উপকার ভোগী কৃষকের কোনো তালিকা আমাদের দপ্তরে নেই। যারা প্রণোদনা পেয়েছে তাদের কাউকেই আমি চিনি না। আর এ ধরনের তথ্য সরবরহ করা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর নিষেধ আছে। তাই এর বেশী বলা সম্ভব নয়।

মেহেরপুর কৃষি খামার বাড়ির উপ-পরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত) শামসুল ইসলাম বলেন, গ্রীস্মকালনি পিয়াজ চাষিদের জন্য মেহেরপুর সদর উপজেলায় সরকারিভাবে কৃষকের প্রণোদনা দেয়ার জন্য নামের তালিকা করে স্থানীয় ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যান ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তবে শুনেছি পিয়াজ চাষের প্রণোদনা সঠিক ভাবে সদর উপজেলার কৃষকরা পায়নি। তিনি আরো বলেন, আমাদের দপ্তরে উপকার ভোগী কৃষকের কোনো তালিকা নেই। তাই প্রণোদনার টাকা কে পেয়েছে তা বলা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।

Leave a Comment