ভালোবেসে বিয়ে, খাটের ওপর পড়ে ছিল স্ত্রীর লাশ

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ভাড়া বাসা থেকে শাকিলা আক্তার মনি (২৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের শাহজাহান মিয়ার বাড়ি (ভাড়া বাসা) থেকে লাশটি উদ্ধার করে বোয়ালমারী থানার পুলিশ। গৃহবধূ ওই গ্রামের মো. লিয়াকত হোসেন কালন মিয়ার মেয়ে ও হুমায়ুন কাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী।

জানা যায়, উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামের সেলিম কাজীর ছেলে হুমায়ুন কাজী (৩৮) দ্বিতীয় স্ত্রী শাকিলা আক্তার মনিকে নিয়ে বিয়ের দুই বছর পর গত ১ এপ্রিল থেকে একই গ্রামের মৃত শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাকিলা আক্তার মনির প্রথমপক্ষের ছেলে মো. সিয়াম (১২) ভাড়া বাসায় এসে দেখে তার মা খাটের ওপর পড়ে আছে। ছেলেটি ডাকাডাকি করে কোনও সাড়া না পেয়ে মায়ের গলায় দাগ দেখে চিৎকার দেয়। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে মনিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর লাশ গ্রামের বাড়ি কমলেশ্বরদী নিয়ে গেলে পুলিশ খবর পেয়ে বিকাল ৫টার দিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন জানান, মনির প্রথম স্বামীর ঘরে ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে হুমায়ুন কাজীর প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। গত দুই বছর আগে তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এরপর থেকে মনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত ১ এপ্রিল হুমায়ুন তার স্ত্রী মনিকে নিয়ে কমলেশ্বরদী গ্রামের ভাড়া বাসায় থাকা শুরু করেন।

লাশ উদ্ধারকারী কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার এসআই মো. কামরুল ইসলাম বলেন, হুমায়ুন কাজী ও শাকিলা আক্তার মনির প্রথম জীবনে প্রেম ছিল। সে সময় মনির অন্য জায়গায় বিয়ে হয়। হুমায়ুনও অন্য জায়গায় বিয়ে করেন। তারা দু’জনে দুই বছর আগে গোপনে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। লাশ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্বামী হুমায়ুন পলাতক বলে জানান তিনি।

Leave a Comment