বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শুভসংঘের নানা আয়োজন

7 / 100

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শুভসংঘ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে মালতিনগরস্থ বগুড়া মহিলা কলেজে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোকাব্বর হোসেন রাজু। আরো উপস্থিত ছিলেন সাবরেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল ইসলাম, মো. সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় বগুড়া মহিলা কলেজ শাখার সদস্য তানজিয়া আক্তার ঝুমুর স্মরণে কলেজ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান শুভসংঘের এই সদস্য।
বগুড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোকাব্বর হোসেন রাজু বলেন, ‘শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে। আমাদের জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গাছের ভূমিকা অপরিসীম। এটি একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সবার প্রতি অনুরোধ, আপনারা পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন। তা না হলে আমরা প্রাকৃতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হব। শুভসংঘকে ধন্যবাদ এ ধরনের একটি আয়োজনের জন্য। শুভসংঘের জন্য শুভ কামনা। ’

পুরো আয়োজনটির সমন্বয় করেন মো. জহুরুল ইসলাম সাজু, মো. শফিক মাহমুদ, ঠাণ্ডা আজাদ প্রমুখ। সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘ বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক শিশির মোস্তাফিজ, আশফাকউর রহমান চন্দন, উম্মে সওদা, নাজমুন নাহার প্রমুখ।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ৫ জুন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা শুভসংঘের উদ্যোগে তারাগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকার ফলদ গাছের চারা রোপণ করা হয়। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণে কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়। কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা বলে, ‘গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের পরিবেশকে সুশোভিত করে। গাছ

থেকে আমরা অক্সিজেন পাই। আমরা আমাদের কলেজে

রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা করব। ’

তারাগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মুখেশ রায় বলেন, ‘সাধুবাদ জানাই শুভসংঘের এই শুভ কাজকে। তারা আমাদের কলেজে যে ফলদ গাছের চারাগুলো লাগিয়েছে, সেগুলো থেকে আমরা ফল পাব। কলেজের শিক্ষার্থীরা সব গাছের পরিচর্যা করবে। ’

শুভসংঘ তারাগঞ্জ শাখার উপদেষ্টা ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘শুভসংঘ সব সময় শুভ কাজ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা শুভসংঘের সব সদস্য মিলে বৃক্ষ রোপণ করলাম। আমাদের সবার উচিত পরিবেশকে ভালো রাখার জন্য বেশি বেশি করে বৃক্ষ রোপণ করা। ’

পুরো আয়োজনের সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘ তারাগঞ্জ শাখার সভাপতি এনামুল হক দুখু, সিনিয়র সহসভাপতি সুজন বাবু, সাধারণ সম্পাদক দীপংকর রায় দীপু, সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত মল্ল প্রমুখ।

পঞ্চগড় জেলার অধুনালুপ্ত ছিটমহলে চারা গাছ রোপণ ও নতুন বাংলাদেশিদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করেছে পঞ্চগড় জেলা শুভসংঘ। গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন শুভসংঘের সদস্যরা। এ সময় নতুন বাংলাদেশি ৩০টি পরিবারকে আমলকী, বহেড়া, হরীতকী, অর্জুন, জাম, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেড় শতাধিক চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন বাড়িতে শুভসংঘের সদস্যরাই চারাগাছ রোপণ করে দেন। এ সময় এলাকার তরুণরা শুভসংঘের সঙ্গে এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে এগিয়ে আসেন। কার্যক্রমটি সফল করতে শুভসংঘ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি ফিরোজ আলম রাজিবের নেতৃত্বে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শুভসংঘের বন্ধু আকাশ, লাবীন, ইয়ানুর, নিতু, হুমায়রা, আহসান, মঞ্জু, হাবিব, শামীম প্রমুখ। দীর্ঘ ৬৮ বছর বঞ্চিত ছিটমহলের বাসিন্দারা বিনা মূল্যে গাছের চারা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। পরে পঞ্চগড় পৌরসভার করতোয়ার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা সোনার বাংলা পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সেখানে শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন শুভসংঘের সদস্যরা।

বিলুপ্ত ছিটমহলের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৬৮ বছর বন্দিজীবন পার করেছি। এখন আমরা বাংলাদেশি। এখন সরকারের পাশাপাশি শুভসংঘের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। তারা আমাদের যে সম্মান দিচ্ছে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমাদের নেই। এই ভালোবাসাটুকুই আমাদের অতীত দুঃখগুলোকে ভুলতে সহায়তা করবে। শুভ কাজে আরো এগিয়ে যাক শুভসংঘ। ’

পঞ্চগড় শুভসংঘের সভাপতি ফিরোজ আলম রাজিব বলেন, ‘বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানাতেই আমরা আমাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তাদের মাধ্যমেই শুরু করেছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। তাই আমরা বিভিন্ন এলাকায় আমাদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি গাছের উপকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজনের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছি। ’

Leave a Comment