বাবার সম্পদে দাবীদার, ব্যক্তির পিতৃপরিচয় সনাক্তে ডিএনএ টেস্ট

নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের শংকরভাগ গ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক ব্যক্তি তার প্রয়াত বাবার রেখে যাওয়া সম্পদ ও বাবার অপর সন্তান হিসেবে দাবীদার আরেক ব্যক্তির আসল পিতৃপরিচয় সনাক্তের জন্য ডিএনএ টেস্টের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই ব্যক্তির নাম পরেশ তেলি। তিনি একই গ্রামের প্রয়াত মনোরঞ্জন তেলীর ছেলে। তাঁর বাবার সম্পদের দাবীদার অখিল তেলী।

সোমবার দুপুর ১২টায় শংকরভাগ মংলারমোড়ে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রয়াত মনোরঞ্জন তেলীর ছেলে পরেশ তেলী বলেন, অখিল চন্দ্র তেলী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে তার প্রয়াত বাবা মনোরঞ্জন তেলীর ছেলে হিসেবে দাবি করে তাদের দুই লাখ টাকা মুল্যমানের জমির দাবি করছেন। এ নিয়ে সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। কিন্তু তৎকালীন প্রবীণ, বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ সবাই জানেন, অখিল তেলী মনোরঞ্জন তেলীর ছেলে নয়। এমনকি মনোরঞ্জন তেলী মারা যাওয়ার পরেও অখিল পিতৃশ্রাদ্ধসহ অন্যান্য সামাজিক রীতি নীতি পালন করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তেলী ও পাহান সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান বেলাল তেলী ও খেদন পাহান বলেন, মুক্তিযুদ্ধেরও আগে প্রয়াত মনোরঞ্জন তেলী আসোবালা নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র দুই দিন পরে জানতে পারেন স্ত্রী আসোবালা সন্তান সম্ভবা। এনিয়ে অনেক সালিশী বৈঠকের মনোরঞ্জন তার স্ত্রীকে ত্যাগ করেন। পরে প্রতিবেশী এক লোকের
বাড়ীতে আসোবালার প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তীতে মিষ্ট পাহান নামের এক ব্যক্তির সাথে আসোবালা অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে তার প্রায় ৫ বছর পরে আসোবালার গর্ভে জন্ম হয় অখিল তেলীর।

এতোদিন অখিল তেলীর কোন খোঁজ ছিলো না। কিন্ত কয়েক বছর আগে মনোরঞ্জন তেলী মারা যাবার পর তার সম্পত্তির কথা জেনে নিজেকে মনোরঞ্জন তেলীর সন্তান দাবী করে আদালতে মামলা করেন অখিল তেলী। এই অবস্থায় অখিল তেলীর সঠিক পিতৃপরিচয় সনাক্তে প্রশাসনের নিকট ডিএনএ টেস্টের দাবি জানান তেলী ও পাহান সমাজের লোকজন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অখিল তেলী জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পিতা হিসেবে মনোরঞ্জন তেলীর নাম ব্যবহার করে আসছেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সালিশে তার পক্ষে রায় প্রদান করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লক্ষণ তেলী, বেলাল তেলী, মিন্টু তেলী, মিজানুর রহমান, বিশ্বনাথ বিশু প্রমূখ। বড় হরিশপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান আলী প্রাং বলেন, অখিল মনোরঞ্জন তেলীর ছেলে কি না, এ নিয়ে সালিশি হয়েছিল সত্য কিন্ত তাতে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা অখিলের দাবীর ব্যাপারে সম্মত না হওয়ায় সালিশ ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি অমিমাংসিত। প্রশাসন বা আদালতের কাছে সংক্ষুদ্ধ পক্ষ আবেদন করতে পারেন।

Leave a Comment