পরকিয়ার কারণে বিচ্ছেদ; মামলা হচ্ছে যৌতুক আইনে

আশরাফুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনটি বিভিন্ন সময় ভিন্নখাতে ব্যাবহৃত হচ্ছে বলে আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে সংসারে বনিবনা না হওয়ার কারনে অনেকে বিচ্ছেদের পথে হাটছে। তবে ভিন্ন কারণে সংসারে বিচ্ছেদ ঘটলেও মেয়েপক্ষ অধিকাংশ সময় আদালতে নির্যাতন ও যৌতুক আইনে মামলা করে থাকেন।

শামীম আহমেদ নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘কুষ্টিয়া জেলার নুসরাত নামের এক মেয়ের সাথে ২০১১ সালে ফেসবুকে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পর আমরা পারিবারিক ভাবে বিবাহ করি। সব কিছু ঠিক চলছিলো কিন্তু, করোনাকালে আমার ব্যাবসা ব্যাপক লোকশানের সম্মুখীন হয়। এমতবস্থায় বিভিন্ন কারনে পরিবারের সাথে আমার দূরত্ব বাড়তে থাকে। একসময় ছোট-খাটো ব্যাপার নিয়ে আমার স্ত্রী সংসারে অশান্তি করতে থাকে। কিন্তু মান সন্মানের দিকে তাকিয়ে আমি সংসারটা নষ্ট করতে চাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্ত্রীর কারণে আমার সাথে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একসময় আমি প্রচুর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমার স্ত্রী পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং আমাকে ছেড়ে চলে সে তার বাপের বাড়ি চলে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আমি সুস্থ হলেও আমার সাথে আমার স্ত্রী কোন যোগাযোগ করে নি, একাকিত্ব সময় কেটেছে আমার।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন পর শশুরবাড়ী থেকে বলা হয় তাদের মেয়ে আর সংসার করবেনা, তালাকও দিবে না। মেয়ের পরিবার থেকে দাবি করা হয় ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে আমার মেয়েকে তালাক দিয়ে দাও। মেয়ের পরিবার থেকে দাবি করা হয়, মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে টাকা লাগবে এই দ্বায়ভার তোমাকে বহন করতে হবে। এমন প্রস্তাবে আমি রাজি না হওয়ায়, মেয়ের পরিবার আমার বিরুদ্ধে নারী যৌতুক আইনে মামলা করে।’

ভিন্ন কারণে সংসারে বিচ্ছেদ হলেও যৌতুক মামলার গ্রহনযোগ্য কতটুকু এমন প্রশ্নে হাইকোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘আমরা অধিকাংশ সময় এমন মামলা সম্মুখীন হচ্ছি। বিয়েতে কাবিননামা কম থাকলে ছেলের পরিবারকে বিপদে ফেলে জরিমানা আদায়ের উদ্দেশে এই যৌতুক মামলা করে থাকেন। বাংলাদেশের আইনে তালাকের ব্যাপারে সিথিলতা থাকায় মেয়ে পক্ষে থেকে নিয়াতন ও যৌতুক আইনের দিকে ঝুঁকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরকিয়ার কারনে সংসার বিচ্ছেদ হলেও এই মামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে ছেলেপক্ষকে। তবে এ ধরনের মিথ্যা মামলা গুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা করলে খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি তবে বিবাদীকে কিছুটা অসিস্থিতে পড়তে হয়।’

Leave a Comment