নারীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে মাদরাসা শিক্ষককে ডেকে নিয়ে হত্যা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারীর নামে আইডি খুলে মাদরাসা শিক্ষকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন এক প্রতারক। এরপর দেখা করার কথা বলে সিলেটের পর্যটন এলাকা জাফলংয়ে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার কাউছার আহমদ রাজু (৩০) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কালাম্বরপুর গ্রামের আব্দুল বাছিতের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। হত্যাকাণ্ডের চার ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে প্রতারক সামসুল ইসলাম হাসানকে (৩১) আটক করেছে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ। আটক সামসুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক মিয়াপাড়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।

তিনি বরিশালে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, সামসুল ইসলাম হাসান ছয়-সাত মাস আগে সামিয়া জাহান নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলে নিহত মাদরাসাশিক্ষক কাউছার আহমদ রাজুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধু করেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত মেসেঞ্জারে চ্যাটিং হতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার পহেলা বৈশাখে সামসুল জাফলং বেড়াতে এসে রাজুকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে জাফলং আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সে অনুযায়ী তার সঙ্গে দেখা করতে নিহত রাজু জাফলং আসেন এবং সামসুল তাকে জাফলংয়ের মেঘালয় হোটেলে নিয়ে যান। ওসি বলেন, হোটেল কক্ষে যাওয়ার পর সামসুল তার সঙ্গে থাকা পিস্তল সদৃশ লাইটার দিয়ে রাজুকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। পরে রাজুর স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

রাজুর স্ত্রী ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে একটি টমটমে নিয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে সামসুল নকল পিস্তলের ভয় দেখিয়ে রাজুর দুই হাত-পা কাপড় দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ফের তিনি জাফলং মেঘালয় হোটেলে চলে যান। স্থানীয় লোকজন রাত পৌনে ১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বিষয়টি তদন্তে নামে। এরপর জাফলং মেঘালয় হোটেল থেকে পুলিশ আজ ভোর ৪টায় সামসুলকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে নিজের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও নিহত রাজুর দুটি মোবাইল ফোন, একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার জব্দ করে পুলিশ। আটকের পর সামসুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন বলেও জানান ওসি। কে এম নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সামসুল তার নিজের নাম-ঠিকানা গোপন করে একটি বাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়ে মেঘালয় হোটেলের ১০৬নং কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন।

Leave a Comment