জোর করে ছেলেকে মাদরাসায় দিয়ে যান মা, সকালে মিললো ছেলের লাশ

7 / 100

ফেনীতে ইস্রাফিল হোসেন ইফাত (১৪) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ মে) সকালে শহরের পুলিশ লাইনস এলাকার মিছবাহুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ নামক মাদরাসার শিক্ষা ভবনের পাশের রাস্তা থেকে ইস্রাফিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, বলে নিশ্চিত করেছেন ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার।

নিহত ইস্রাফিল হোসেন (ইফাত) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের সাত ঘরিয়া গ্রামের ওমান প্রবাসী মো. ইয়াসিনের ছেলে। তিনি পুলিশ লাইনস এলাকার মিছবাহুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসা হিফজ বিভাগের ছাত্র। জানা গেছে, ইতোমধ্যে ২৮ পারা কুরআন মুখস্ত করেছেন ইস্রাফিল।

মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. ইউনুছ জানান, গত ৫ দিন আগে ইস্রাফিল মাদ্রাসা থেকে
চলে গেলে গত শুক্রবার বিকেলে তার মা জোর করে তাকে মাদরাসায় রেখে যান। তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে রাখতে অস্বীকৃতি জানালেও তার মা তাকে রেখে যান। এক পর্যায় শনিবার ভোরে পড়ার সময় তাকে ক্লাসে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। এর
কিছুক্ষণ পর বাড়ির মালিক হাজি রিয়াজ উদ্দিন তাকে খবর দেন যে একজন ছাত্রের লাশ ভবনের পাশের রাস্তায় পড়ে আছে। পরে ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ইতোমধ্যে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নিহত ইস্রাফিলের নানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ৫ বছর ধরে ইস্রাফিল হোসেন ইফাত মিছবাহুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেলে সে তার মাকে জানায় যে, মাদরাসায় শিক্ষকরা তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো, এজন্য সে আর মাদরাসায় ফিরে যাবে না। পরে ছুটি শেষে গত ৭ মে শনিবার ইস্রাফিলকে তার মা আবারও মাদরাসায় দিয়ে যান। এর পরেরদিন রোববার ইস্রাফিলকে ডিম আনতে দোকানে পাঠায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ইস্রাফিল ডিম আনতে গিয়ে টাকা হারিয়ে ফেললে সে আর মাদরাসায় ফিরে যায়নি। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে চারদিন পর শহরের একাডেমি এলাকা থেকে ইস্রাফিলকে খুঁজে পেয়ে তার মা শুক্রবার বিকেলে ছেলেকে আবারও মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন।

নিহত ইস্রাফিলের চাচা ফয়েজ উল্লাহ জানান, ২৮ পারা কুরআন শরীফ মুখস্ত করা ইস্রাফিলকে
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ রাখতে না চাইলেও তার মা কাকুতি-মিনতি করে ছেলেকে মাদরাসায় রাখতে অনুরোধ করেন। এ সময় ইস্রাফিলের মায়ের কাছ থেকে ‘ছেলের কিছু হলে মাদরাসা দায় নিবে না’ এমন একটি বন্ড সাইন নেন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক।

নিহতের চাচা ফয়েজ উল্লাহ আরও জানান, শনিবার সকালে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ইস্রাফিলের বাড়িতে
ফোন করে তা মাকে মাদরাসায় জরুরি ভিত্তিতে আসতে বলে ফোন কেটে দেন। পরে ইস্রাফিলের মা মাদরাসায় গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মাদরাসায় থাকা এক শিক্ষক ইস্রাফিলের মাকে জানান যে, সে মাদরাসার ৬ তলা ভবন থেকে পড়ে নিহত হয়েছে।

ঘটনার পর মাদরাসার প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা পালিয়ে যায় বলে দাবি নিহতের চাচার। তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মাদরাসার ৬ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ইস্রাফিলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ভাঙ্গা বালতি জব্দ করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তদন্ত করছেন বলে জানান তিনি।

Leave a Comment