‘জীবন নিয়ে খুবই তৃপ্ত, যা পেয়েছি যথেষ্ট’

 জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে পেছনে ফিরে তাকালে তৃপ্ত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জীবন নিয়ে কোনো দুঃখবোধ, আক্ষেপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নো, আই অ্যাম হ্যাপি। আমি আমার জীবন নিয়ে খুবই তৃপ্ত। জীবনে যা পেয়েছি, দ্যাটস এনাফ।

রেকর্ডসংখ্যক বাজেট পেশ করা সাবেক এই অর্থমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা ও করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর সিলেট এসেছিলেন গত সোমবার। চার দিন থেকে শুক্রবার ফিরে গেছেন ঢাকায়। যাওয়ার আগে শুক্রবার দুপুরে নিজ বাসায় কালের কণ্ঠের কাছে তিনি এভাবেই তুলে ধরেন নিজের প্রতিক্রিয়া।

নিজের জীবন নিয়ে কোনো দুঃখবোধ আছে কি না―এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নো, আই অ্যাম হ্যাপি। আমি আমার জীবন নিয়ে খুবই তৃপ্ত। জীবনে যা পেয়েছি, দ্যাটস এনাফ। ৫৪ বছর জনসেবা করেছি, আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ‘

রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছিলেন এমনটি শোনা যায়, এ রকম আকাঙ্ক্ষা ছিল কি না জানতে চাইলে, মাথা নেড়ে বললেন, ‘না, আমার মনে হয় না আমি কখনো রাষ্ট্রপতি হতে চেয়েছি। এ ধরনের কিছু না। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়া তো একটা গৌরবের বিষয়। আমি যদি রাষ্ট্রপতি হয়ে যেতাম তাহলে তো খুব খুশিই হতাম। ‘

অবসর জীবন কেমন কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ভালোই কাটছিল। অনেকগুলো বই পড়ছিলাম। তা ছাড়া একটি বই লেখার কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, সেটিও গুছিয়ে এনেছি। তবে মাঝখানে করোনা এবং নিজের অসুস্থতা কিছুটা ছেদ ঘটিয়েছে। করোনা অনেক প্রিয়জনকে কেড়ে নিয়েছে। ‘

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর সিলেট আসতে পেরে আপ্লুত আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সিলেট আসার জন্য আমি উদগ্রীব ছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং অসুস্থতার কারণে আসতে পারছিলাম না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। কারণ এটা আমার জন্মমাটি। ‘

মুহিত বলেন, ‘সিলেট আমার চেনা শহর। এখানে আমার জন্ম। শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছি এখানে। তাই সিলেটের জন্য আমার আলাদা টান। প্রতিবছর ঈদে এখানে ঈদগাহে নামাজ আদায় করে থাকি। কিন্তু গত দুটি বছর ঈদের জামাতেও আসতে পারিনি। সিলেট আসতে না পারার যে অনুভূতি কাজ করেছে তা বলে বোঝাতে পারব না। ‘

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যে সিলেট একটি বিশিষ্ট স্থান। একসময় সিলেটের জৈন্তাপুরে নরহত্যা হতো। কিন্তু এখানে একজন সুফি (হযরত শাহজালাল (রহ.) এসেছিলেন। তাঁর সিপাহসালার ছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ। তিনি সিলেট এসে এসব অনাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং তিনি সফল হন। সেই নরহত্যার ট্র্যাডিশন থেকে বেরিয়ে আমরা মানুষের জীবনের জয়গান করতে শিখেছি এবং এ জন্য উই সিলেটিস ইজ ভেরি প্রাউড। ‘

Leave a Comment