চাহিদার শতভাগ পটাশ সার জোগান দেবে কানাডা

7 / 100

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যখন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং খাদ্য সঙ্কটের ঝুঁকি বাড়ছে তখন বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বন্ধু দেশ উত্তর আমেরিকার রাষ্ট্র কানাডা। দেশটি বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মিউরেট অব পটাশ সারের শতভাগ চাহিদার জোগান দিতে রাজি হয়েছে। পাশাপাশি ভোজ্য তেল, ডালসহ একাধিক খাতে কানাডা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে।

কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান বুধবার সকালে এই প্রতিবেদককে বলেন, চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনায় আমাদের পটাশ সারের জোগান নিয়ে যে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছিল তা মিটে গেছে। কানাডা সরকার জানিয়েছে যে বাংলাদেশের চাহিদার শতভাগ সারই তারা দেবে।

কী পরিমাণ পটাশ সার আমাদের প্রয়োজন, জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, আমাদের প্রতিবছর ৬ লাখ মেট্রিক টনের মতো এই সার প্রয়োজন হয়। আগে আমরা চাহিদা মেটাতে কানাডা থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন এবং বাকিটা রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে আমদানি করতাম। কিন্তু চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে আমদানি করা অনিশ্চিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক দূতাবাসে চিঠি দিয়ে এই ইস্যুতে কানাডার সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলেন। আমরা কানাডা সরকারের সঙ্গে এই ইস্যুতে বৈঠক করলে তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন। আমাদের চাহিদার ৬ লাখ মেট্রিক টনের পুরোটাই কানাডা সরবরাহ করবে।

কৃষি অধিদফতর থেকে জানা গেছে, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে কৃষি ফসল উৎপাদনে পটাশ সারের প্রয়োজন হবে। তখন দেশে আলু উৎপাদনের মৌসুম শুরু হবে। ওই সময়ে এই সারের জোগান ব্যাহত হলে দেশে খাদ্য উৎপাদন বিঘ্নিত হবে এবং জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান বলেন, পটাশ সার নিয়ে এখন আর চিন্তার কিছু নেই। আগামী মৌসুম শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় পটাশ সার কানাডা সরবরাহ করবে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, শুধু পটাশ সারই নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজনে ভোজ্য তেল, গম ও ডালের জোগান দিতেও রাজি আছে বলে কানাডা আমাদের জানিয়েছে। কিন্তু এই পণ্যগুলো যেহেতু আন্তর্জাতিক অন্য বাজারেও মিলবে তাই যেখানে মূল্য কম পাওয়া যাবে, বাংলাদেশ সেখান থেকেই সংগ্রহ করবে।

এর আগে, গত মে মাসের ৫ তারিখে সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকলস। ওই সাক্ষাতে হাইকমিশনার লিলি নিকলস কৃষিমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে, বৈশ্বিক খাদ্য সঙ্কট দেখা দিলে কানাডা বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারভাবে খাদ্যশস্য দিতে প্রস্তুত আছে। ওই সময়ে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, কৃষি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ে কানাডার বিনিয়োগ চেয়েছি। তারা বলেছেন, আগামী নভেম্বরে এই বিষয়ে তাদের একটা প্রদর্শনী মেলা ও সেমিনার হবে, তারা সেখানে আমাদের আমন্ত্রণ জানাবেন। তখন আমরা একটা বাণিজ্য প্রতিনিধি দল কানাডায় পাঠাব। কারণ তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানে না।

Leave a Comment