গ্রামের বধুর অনলাইনে খাবার বিক্রি করে মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা

 

২৫’শ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু। বিভিন্ন ব্যাংক,অনলাইন, বিয়ে, পিকনিক, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্ডারের খাবার তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন মোকাদ্দেসা(বৃষ্টি)।তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বৈরতলা গ্রামে। স্বামী একজন আরএসি ইঞ্জিনিয়ার,নাম বাইরুল ইসলাম । স্বামী, শ্বাশুড়ি,জাসহ পরিবারের সকলের সহযোগিতায় তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এ খাবারের ব্যবসা।গত বছরের ৫আগষ্ট মাত্র ২৫’শ টাকা দিয়ে তার এ ব্যবসা শুরু। প্রথমে এলাকার লোকজন ও শিক্ষার্থীরা ছিল তাঁর প্রথম ক্রেতা। খাবারের মান ভাল থাকায় বাড়তে থাকে তাঁর ব্যবসার পরিধি।ডাসকো ফাউন্ডেশন(বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা) খাবারের মান দেখে তাঁদের অনুষ্ঠানের জন্য অর্ডার দেন। পরবর্তীতে অনেক প্রতিষ্ঠান অর্ডার দিয়ে তার খাবার নেন। ঘরোয়া পরিবেশে বড় জা কে নিয়ে সে খাবার তৈরি করে।এরপর অনলাইনে

‘Drem Food’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ খুলেছে। এতে অনলাইনেও সে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। অনেকে অর্ডারও দিচ্ছেন। গ্রামের কিছু অসহায় নারী তার এ খাবার ব্যবসায় কাজ করছেন। বাড়িতে বসে সে দেশীসহ বিভিন্ন রমক ফাস্ট ফুড খাবার তৈরি করছেন। এতে তাঁর পরিবারের সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছেন। রহনপুরের বহু দূর-দূরান্ত থেকে অর্ডার করছে ক্রেতারা।উদ্যোক্তা বৃষ্টি জানান, “মোবাইলে ইউটিউব দেখার সময় সিরাজগঞ্জের তিন বোনের অনলাইনে খাবার বিক্রি খবরটি দেখি। তাঁদের এ ব্যবসা দেখে তার অনলাইনে ব্যবসা করার উৎসাহ আরো বেড়ে যায়।”

স্বামীকে জানালে সেইও উৎসাহ দেয়। বিষয়টি বড় জা কে জানালে সেই সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে।নিজে বাজারে গিয়ে জিনিসপত্র ও পণ্য ক্রয় করি। এ থেকে শুরু হয় তাঁর খাবারের ব্যবসা।গ্রামের লোকজন প্রথমে খাবার নিতে শুরু করে, পরে স্কুলের শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বাড়িতে এসে খাবার খেয়ে যান।এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য খাবার ও ফাস্ট ফুড খাবার অর্ডার নিয়ে থাকি। তা নিজস্ব পরিবহণে পৌঁছে দেওয়া হয়ে থাকে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজে বড় ভাসুরের ছেলে মোটরসাইকেল করে দিয়ে যান। অনেক সময় নিজে এসে অর্ডারের খাবার দিয়ে আসেন।তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এলাকার বেকার ও দুঃস্থ নারীদের কাজে লাগিয়েছেন। ৫/৬ জনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। রহনপুর পৌর এলাকার অনেক বাসা,বাড়ি, চাকরীজীবি, হোস্টেল, মেসে তিন বেলা খাবার দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এ খাবারের ব্যবসা করে অত্যান্ত খুশি। তবে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁর ব্যবসা আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।তবে অর্ডারের উপর এ উপার্জন করে থাকি। তবে গ্রামের আরও কয়েকজন বেকার নারীদের সম্পৃক্ততা করতে চাই।অন্য মেয়েদের উদ্দেশে তিনি বলেন বলেন,বাড়িতে বেকার না বসে আমার মত যেকোনো কাজে যোগ দেয়া দরকার। বৃষ্টি জানান, ঘরোয়া পরিবেশে তিনি দেশী খাবার, ফাস্ট ফুড, মোমো, বিরিয়ানি, রাইসবোল, পাস্তা, ফ্রাইড রাইস, চাইনিজ- চাওমিন, চিকেনফ্রাই, পিৎজা,বার্গার, শর্মা, সকালের নাস্তাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার অর্ডার অনুযায়ী তৈরি করে থাকে।এছাড়া সাধ্যের মধ্যে বিভিন্ন খাবার চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করে থাকি।

বিভিন্ন সময় তাঁরা বৃষ্টির কাছ থেকে খাবারের অর্ডার দেয়। কম খরচে মানসম্মত খাবার পরিবেশন তাদের লক্ষ।প্রতিবেশী শিক্ষক তোফিজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি সম্পর্কে আমার বউ মা। বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে থাকে। প্রথমে সে রাস্তার ধারে খাবার বিক্রি শুরু করেছিল। পরবর্তীতে রাস্তা থেকে খাবারের অর্ডার নিতে থাকে। তাঁর জা তাঁকে সব ধরনের খাবার তৈরিতে সহযোগিতা করে চলেছে।উদ্যোক্তার স্বামী বাইরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আমার স্ত্রীকে নিষেধ করেছি। কিন্তু তাঁর আগ্রহ দেখে আর বাঁধা দিতে পারি নি। ৩হাজার টাকার মূলধন দিয়ে তার ব্যবসা শুরু।তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।সে গ্রামের শিক্ষিত, অসহায় মেয়েদের কর্মস্থান করে দিচ্ছে ।মাসিক বিক্রি করে ৮০হাজার থেকে ১লক্ষ টাকা,খরচ বাবদ তার আয় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে ব্যবসার প্রসার ঘটাতে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামিউল ইসলাম প্রতিবেদকে মুঠোফোনে বলেন, বৃষ্টি খাবারের অর্ডারের ব্যবসা করে দিনদিন সে ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে।তার ব্যবসার করার ফলে এলাকার মেয়েরা কাজের সুযোগ পেয়েছে।দূর-দূরান্ত থেকে ভালই অর্ডার পাচ্ছেন তিনি ।

Leave a Comment