গৃহবধূকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী

কুমিল্লার দেবীদ্বারে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী আসাদ সরকারকে আটক করে। আসাদ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গুনাইঘর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।অগ্নিদগ্ধ সাদিয়া হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে

লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।গত শনিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়ার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর জানান, এ ঘটনায় সাদিয়ার বাবা মো. ফরিদুল আলম অপু সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার রাতে আসাদ সরকারকে

গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সাদিয়া বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে এর আগেও কয়েকবার বলেছে যে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করবে। গত পাঁচ মাস ধরে যৌতুকের জন্য আমাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। টাকা না দেওয়ায় আমার শরীরে কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় আমার স্বামী। আমি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আমাকে বাধা দেওয়া হয়। ‘

আরও পড়ুন= ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে নিউমার্কেটের দোকানকর্মীদের সংঘর্ষের একাধিক ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায়, রামদাসহ নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে মারমুখী ছিলেন অনেকে। কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ মিয়া ও দোকানকর্মী মোরসালিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্নেষণ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাহিদ হত্যায় জড়িত সন্দেহে ঢাকা কলেজের পাঁচ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাকিম শান্তা আক্তার এই আদেশ দেন।রিমান্ডপ্রাপ্ত পাঁচ ছাত্র হলেন- ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আব্দুল কাইয়ুম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের পলাশ মিয়া ও মাহমুদ ইরফান, বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মো. ফয়সাল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র জুনায়েদ বুগদাদী।

সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় কাইয়ুম রড হাতে ছিলেন। তার পরনে ছিল নীল রঙের জিন্স প্যান্ট ও গেঞ্জি। জোনায়েদ হেলমেট পরিহিত ছিলেন। তার হাতে ছিল রামদা। এ ছাড়া পলাশ ও ফয়সালের পরনে ছিল হাফ প্যান্ট। তাদের হাতেও অস্ত্র দেখা গেছে।পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদে ঢাকা কলেজের ছাত্ররা জানিয়েছেন, ‘জোশে পড়ে’ তারা হামলায় জড়িয়েছেন। ‘বড় ভাই’রা তাদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেন। ঘটনার পর তা আবার ভাইদের কাছে ফেরত দেন। হামলার পর ঢাকা কলেজের হোস্টেলে তারা অবস্থান করেন। ক্যাম্পাস নিরাপদ বিবেচনায় প্রথম দিকে কেউ বাইরে গা-ঢাকা দেননি। ২২ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে যে যার মতো পালিয়ে যান।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার মাহমুদ ইরফান ও কাইয়ুমের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দায়। ফয়সালের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। জুনায়েদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। ইরফান ও কাইয়ুম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঘটনার দু’দিন পর তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে এক ভাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। এ ছাড়া ঢাকা কলেজে সংঘর্ষে জড়িত আরও কয়েকজন ছাত্র বুয়েট ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পালিয়ে ছিলেন।একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে পালিয়ে থাকতে যারা সহযোগিতা করেছিল, তাদের সবার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। এলাকার ‘ছোট ভাই’ হিসেবে আশ্রয় দেন। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment