এ ব্যাপারে কিছু না বলি এখন…

দিনটা কীভাবে শুরু হয়?

শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে। শিহাব শাহিনের একটি ঈদের নাটকের কাজ করছিলাম। শুটিং করতে করতে রাত ১২টা পার হয়ে যায়। শুটিংয়েই কেক কাটা হয়েছে। দিনে বাসাতেই ছিলাম, কোথাও বের হইনি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। কোনো আয়োজন নেই।

অভিনয়ের ১২ বছরে পদার্পণের বছর এটা। এই জন্মদিন আলাদা মনে হয়নি?

প্রতিটি জন্মদিনই ভিন্ন। জীবন থেকে একটা করে বছর চলে যায়। কিন্তু সেই এক বছরে আমি কী শিখলাম, কী কী করলাম—সবকিছুরই একটা রিমাইন্ডার পাওয়া যায়। তবে জন্মদিনে আমি একটু চুপচাপই থাকি। নিজের মতো করেই থাকতে চাই। পাশাপাশি দিনটা আমাকে আবেগাপ্লুত করে।

কেন?

ভক্ত-দর্শক থেকে শুরু করে যেসব মানুষের সঙ্গে আমার ওঠা-বসা, দিনটি মনে রেখে তাঁরা আমার ছবি শেয়ার করেন, আমাকে নিয়ে লেখেন। তাঁদের মূল্যবান সময় আমার জন্য ব্যয় করেন। আমার ভালো লাগে। ফ্যানরা, ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা জানেন, এই দিনে আমি কী চাই। এ জন্য তাঁরা নিজেদের মতো করে ফেসবুকে উইশ করেন, কেক কাটেন। কেক কাটার ছবি তোলেন, ভিডিও বানান। সেসব পোস্ট করেন। বলতে পারেন এটিও আমার ইমোশনাল জার্নি।

কখনো কখনো কি ভক্তদের পাগলামিতে চমকে যান?

অবশ্যই। সারা বছরই তাঁরা আমাকে নিয়ে কত কিছু করেন। নানা ধরনের পাগলামি করে, আমাকে নিয়ে ফেসবুকে ছবি দিয়ে, লিখে চমকে দেন আমাকে। আজকের কথা বলি—ঘুম থেকে উঠে দেখি ফ্যান ক্লাবের সদস্যরা আমার ছবিতে তাঁদের ফেসবুক প্রোফাইল সাজিয়েছেন। অনেকক্ষণ ধরে তা স্ক্রল করে করে দেখছিলাম। সবার প্রোফাইল পিকচার একই রকম। আর্মিতে যেমন একই ইউনিফর্ম থাকে, আমার ছবিতে একই প্রোফাইল দেখে মনে হয়েছে মেহজাবীনের আর্মি। হা হা হা।

মেহজাবীনের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর রহস্য কী?

আলাদা কোনো রহস্য নেই। একাগ্রতা, আন্তরিকতা দিয়ে কাজের চেষ্টা করে গেছি। এই জার্নিতে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। আমার সহশিল্পী, পরিচালকেরা সহযোগিতা করেছেন। চিত্রনাট্যকার, পরিচালকেরা আমাকে নিয়ে আলাদা করে ভাবেন, তাঁদের সর্বোচ্চটা আমাকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই জায়গা থেকে আমি বলব, আমি সৌভাগ্যবান। জন্মদিনের রাতে আমার শুটিংয়ে কয়েকজন পরিচালক এসেছিলেন। রাত ১২টা পর্যন্ত সেটে বসে থেকে আমাকে শুভকামনা জানিয়ে গেছেন। এসব কারণেও আমি জন্মদিনে বেশ ইমোশনাল থাকি।

গ্ল্যামারের দুনিয়ায় আপনাকে একটু ভিন্নভাবে চোখে পড়ে। নানা ধরনের চরিত্রে আপনার আগ্রহ, কেন?

এ আগ্রহ বেশ আগেই আমার মধ্যে এসেছে। যেদিন থেকে এই কাজকে আমি পেশা হিসেবে নিয়েছি, সেদিন থেকেই এ ধরনের কাজের চেষ্টা করেছি। অভিনয়ের এই জার্নিতে একটা সময় আসবে, যখন আমার বয়স হবে। আমি হয়তো কেন্দ্রীয় চরিত্র বা নায়িকা চরিত্রে কাজ করতে পারব না। অর্থাৎ আমাকে মানাবে না। তখন যেন আমি ‘চরিত্র’ হয়ে কাজ করতে পারি। চরিত্রই একটা সময় বাঁচিয়ে রাখবে আমাকে। বলা যায়, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিচ্ছি। কারণ, আমি তো অভিনয় ছাড়ব না। এই জায়গা আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে।

ঈদের কাজের খবর কী?

আগের করে রাখা ও নতুন কাজ মিলিয়ে এই ঈদে ১০টা নাটক হতে পারে। আগে হয়তো ঈদের সময় আরও কিছু বেশি কাজ হতো। বেশ কয়েক বছর এভাবেই কাজ করছি।

আপনার পছন্দের অভিনেত্রী কে?

অনেকের কাজই ভালো লাগে। জয়া আপা, অপি আপার কাজ ভালো লাগে। এর বাইরে এখন আমরা যারা কাজ করছি, তাদের মধ্যে তানজিন তিশা সুন্দর, ট্যালেন্টেড একটি মেয়ে। নিজের মতো করে নিজেকে গুছিয়ে এনেছেন। নানা ধরনের চরিত্র করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এর বাইরে অর্ষাকে আমার সবচেয়ে মেধাবী, শক্তিশালী অভিনেত্রী মনে হয়। তিনি আরও বেশি কাজ করলে ভালো লাগত। তাঁর অভিনীত এক হৃদয়হীনা নাটকটি দেখে মনে হয়েছিল, ইশ্‌! এই কাজ যদি কোনোভাবে আমার কাছে আসত, কখনোই ফিরিয়ে দিতাম না। এই নাটকে দারুণ অভিনয় করেছেন তিনি।

কর্মক্ষেত্র নিয়ে সন্তুষ্ট?

আমি অনেক সন্তুষ্ট। আমি ইতিবাচক একজন মানুষ। এই অঙ্গন নিয়ে ইতিবাচকভাবেই ভাবতে চাই, বলতে চাই। কয়েক বছর আগেও টেলিভিশন নাটকে দর্শকখরা ছিল। এখন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভালো ভালো কাজ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ওটিটিতে ভালো ভালো কাজ আসছে। অনেকগুলো অ্যাপ এসেছে। দর্শক ইচ্ছেমতো দেখতে পাচ্ছেন। কাউকে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এখন। এখন দর্শকের জন্য ওপেন অপশন।

মেহজাবীন চৌধুরী
মেহজাবীন চৌধুরীছবি: সংগৃহীত
নিজেরা প্রকাশ না করলেও অনেকেই জানেন আপনার সঙ্গে নির্মাতা আদনান আল রাজীবের সম্পর্কের কথা। ফেসবুকে শেয়ার করা ছবি ও লেখায় সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

হা হা হা…এ ব্যাপারে কিছু না বলি এখন। তবে ছবিটি সুন্দর, লেখাটা আরও বেশি সুন্দর। খুব ভালো লেগেছে। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। ছবিটি এক–দুই বছর আগে প্লেনে বসে তোলা। জায়গাটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না।

ওই ছবি ও লেখা শেয়ার করার খবর আগে থেকে জানতেন না আপনি?

না না, আমি শুটিংয়ে ছিলাম। জানতাম না। শেয়ার করার ১৫–২০ মিনিট পর দেখেছি। স্ট্যাটাসটা খুব সুন্দর করে লিখেছেন, ভালো লেগেছে

Leave a Comment