এখন আর সহজে চোখে পড়ে না বিচিকলা

7 / 100

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির বিচিকলা (দয়াকলা)। ছয়ঋতুর এই দেশে প্রায় হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির বিচিকলা এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না। একসময় তরকারি হিসেবে খুব সুস্বাদু খাবার ছিল এই বিচিকলা। আর পাঁকা কলার কদর ছিল আলাদা।

দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
আধুনিক যুগে কৃষিনির্ভর এই দেশে উন্নত মানের কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিদেশি হাইব্রিডসহ নানা উন্নত মানের বিভিন্ন প্রজাতির কলা জাতের আগমনের ফলে মানুষ এখন ভুলেই গেছে দেশীয় বনজ, ফলজ জাত ও চাষ পদ্ধতি। একদম মনেই নেই প্রকৃতিতে তৈরি হওয়া দেশের এই সব খাদ্যের কথা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও লেখক বদরু মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে কলাগাছের জুড়ি ছিল না। একসময় ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে ঘরবাড়ি রক্ষা করতে মানুষ বাড়ির আনাচে কানাচে বিচিকলা গাছ রোপণ করতেন। এই গাছের গুণাবলি বলে শেষ করা যাবে না। বিচিকলা কাঁচা থাকতে তরকারি আর পেকে গেলে পাকা কলার কদর ছিল আলাদা। কাঁচা কলা ইলিশ মাছের জন্য খুব উপযোগী তরকারি ছিল। বিচিকলা আর ইলিশ মাছের তরকারির স্বাদ ছিল আলাদা।’

লেখক আরও বলেন, ‘বিচিকলা ঈদ পার্বণে অতিথি আপ্যায়নে ছিল যথেষ্ট প্রচারণা। চালের গুড়ার সঙ্গে পাকা বিচিকলা দিয়ে গরুর দুধ একত্রে মিশিয়ে পায়েশ (নোম) তৈরি করে অতিথি আপ্যায়ণ করতেন বাংলার রমণীরা।’

তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহমান শেখ বলেন, ‘প্রতি বছর কৃষি মেলার সময় হারিয়ে যাওয়া এই দয়াকলা (বিচিকলার) প্রদর্শনী করলে তরুণ সমাজ এই বিচিকলাকে চিনতে পারবে এবং এই জাতের কলাগাছ রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।’

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুর বলেন, ‘প্রকৃতির নিয়মে এবং হাইব্রিডসহ নানা উন্নত মানের বিভিন্ন প্রজাতির কলা জাতের আগমনের ফলে এই দেশীয় প্রজাতির বিচিকলা হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষি গবেষণা কেন্দ্র থেকে হারিয়ে যেতে বসা এই স্থানীয় প্রজাতির বিচিকলাকে বাঁচাতে এবং বিস্তার লক্ষ্যে কাজ করলে আবারও এই কলা বিস্তার লাভ করবে।’

Leave a Comment