একটি ফোনকলে দুই কন্যাকে ফিরে পেলেন সেই রিকশাচালক বাবা

 

একটি ফোনকলের সূত্র ধরেই হারানো দুই কন্যাকে ফিরে পেলেন ফতুল্লার সেই রিকশাচালক বাবা। দিনাজপুর থেকে মায়ের সাথে ফতুল্লায় চলে আসা ইতি(৯) ও মীম(৫) এর সন্ধান পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ তাদের পিতা ইদ্রিস আলীর নিকট বুঝিয়ে দেয়। শনিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফতুল্লা থানার মুসলিমনগরে শিশু দু’টিকে তাদের নানীর হেফাজত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে ইদ্রিস আলী তৎক্ষণাৎ থানায় ছুটে আসেন।

থানা কম্পাউন্ডে মেয়েদেরকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইদ্রিস। রাতেই ফতুল্লা থানার কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিং করে নারায়নগজ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘২০২১ সালে ইদ্রিস আলী বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রী দুই কন্যা ইতি ও মিমকে নিয়ে দিনাজপুর জেলার কাহালু থেকে নারায়নগঞ্জে চলে আসেন। এতে করে বাবা ইদ্রিস আলী দিশেহারা হয়ে মেয়েদের খোঁজে বিভিন্ন শহরের অলিগলিতে রিকশা চালিয় মেয়েদের খোঁজ করতে থাকেন।এক পর্যায়ে চলে আসেন নারায়নগঞ্জে, অলিগলিতে রিকশা চালিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে তার দেখা হলে তা গণমাধ্যমে প্রচার পায়। পরে দুই সাংবাদিকের সহযোগিতায় তিনি থানায় এলে তাকে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করতে বললে ১০ এপ্রিল তারিখে সাধারন ডায়েরী করেন। এর সূত্র ধরে ফতুল্লা থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান ও সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম কাজ করতে শুরু করেন। তিন দিন পূর্বে একটি ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে যে মেয়ে

দুটো ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় অবস্থান করছে।

পরে শনিবার বিকেলে সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম মুসলিম নগর এলাকা থেকে মেয়ে দুটোকে তার নানীর বাসা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মেয়ে দুটোকে কার হেফাজতে দেওয়া হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘আগামীকাল (রোববার) এই বিষয়ে আদালতের শরনাপন্ন হবো। আদালত নির্ধারন করবে যে মেয়ে দুটো কার কাছে দিবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম, সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ- পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম।

শিশু দু’টির নানী আকলিমা বলেন, ‘দশ বছর পূর্বে আমার মেয়ের ইদ্রিসের সাথে বিয়ে হয়। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ফতুল্লার মুসলিমনগরে এসে একটি গার্মেন্টে চাকুরী নিই এবং এখানেই বসবাস শুরু করি। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দুই বছর পূ্র্বে মেয়ে দুই নাতনি ইতি এবং মিমকে নিয়ে ফতুল্লার মুসলিমনগরে আমার কাছে চলে আসে। এখানে এসে গার্মেন্টে চাকুরী নেয়। এক বছর পূর্বে আমার মেয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দেয় এবং দুই মাস পূর্বে সে ইতি ও মিমকে আমার নিকট রেখে বিদেশ চলে যায়। আজ পুলিশ গিয়ে আমাকেসহ দুই নাতনীকে থানায় নিয়ে এসেছে।

ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার ছিলো। কৃষিকাজের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। আশা ছিল মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দিবেন। কিন্তু স্ত্রীর উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনো এক দালালের খপ্পরে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে আমার সংসার। দুই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে তিনি জানান, মেয়েদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান। সেখানে নিয়ে গিয়ে মেয়েদেরকে স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে পড়ালেখা শেখাবেন। তিনি ফতুল্লা পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারের নিকট অনুরোধ করেন যাতে করে তার নিকট মেয়েদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

Leave a Comment