‘আমাগো ঈদ মাটিতে ঘুমাইতেছে’

‘আমাগো ঈদ তো মাটিতে ঘুমায়। দুদিন পর ঈদ, এবার আর আমার বাছাধন তো আমায় সালাম করবে না। বলবেও না মা আমায় সেমাই দেও।’

এভাবেই চোখের পানি ফেলে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন রকেট হা””মলায় নিহত বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মা রাশিদা বেগম।

গত ২ মার্চ ইউক্রেনের অলিভিয়ায় বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হা””মলায় নিহত প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে। ওই গ্রামের পুরো বাড়িতেই যেন ঈদের আমেজ শুধু হাদিসুরের বাড়িতে নেই তেমন কোনো আমেজ।

মা রাশিদা বেগম আরও জানান, হাদিসুরের নিহতের ঘটনার পর বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ১ লাখ টাকা, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন এবং বরগুনার পুলিশ সুপার ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন।

সেই টাকা দিয়ে কুলখানি আয়োজনের পর শেষ হয়ে যায়। তবে ঈদ আসলেও এখন পর্যন্ত কেউ নেয়নি খোঁজ; করেনি সহযোগিতা।

হাদিসুরের ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স বলেন, ভাই তো আর আমাদের নতুন শার্ট কিনে দিবে না।

কার দেওয়া শার্ট গায়ে দিয়ে ঈদ করব। ভাই মারা যাওয়ার পর সবাই খোঁজ খবর নিয়েছিল। সহযোগিতা করেছিল। ঈদে আমাদের কেউ সহযোগিতা করেনি।

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ঘোষণা দেওয়া ১ কোটি টাকার সহযোগিতা ও চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তারা বলেছিল যে আমাদের ১ কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করবে, এখন পর্যন্ত পাইনি।

চাকরির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি তবে আশাবাদী আমাদের সহযোগিতা করবে তারা।

হাদিসকে হারিয়ে যেমন তার মা এখনো দিশেহারা তেমনি তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আ. রাজ্জাক শোকে হারিয়ে ফেলেছেন মুখের ভাষা।

হাদিসুরের চাচাত ভাই মিঠু বলেন, হাদিস মা”রা যায়নি দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। ও আমাদের গর্বের ভাই।

Leave a Comment