আগে ইট দিয়ে আঘাত, পরে গুলি

 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাবার কোলে থাকা শিশু তাসফিয়া আক্তার জান্নাতকে ইট দিয়ে আঘাত ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত বেগমগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলেন ঐ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের নুরনবীর ছেলে এমাম হোসেন ওরফে স্বপন, লফিতপুর চৌধুরী মাস্টার বাড়ির সামছুদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন বাবর, লফিতপুর গ্রামের ছাদেক মেম্বারের পুরান বাড়ির দেলেয়োর হোসেনের ছেলে দাউদ হোসেন রবিন।বেগমগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি এ ঘটনার সত্যতা

নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে।বুধবার বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মালেকার বাপের দোকান নামক স্থানে মাওলানা আবু জাহেরের কোলে থাকা ৩ বছর বয়সী তাসফিয়া আক্তার ওরফে জান্নাতকে গুলি করে হত্যা করে স্থানীয় রিমন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবাও গুলিবিদ্ধ হন।অভিযুক্ত রিমন একই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মমিন উল্যার

ছেলে। রিমন এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। রিমনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।নিহতের মামাতো ভাই ব্যবসায়ী আবদুল্যাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন আগে আমাদের বাড়ির আল আমিন নামে এক ব্যক্তি জমির মাটি বিক্রি করে সন্ত্রাসী রিমন কাকা বাদশার কাছে। বাদশা ঐ জায়গা থেকে ৬ ফুট মাটি কাটে। এরপর আরো মাটি কাটতে গেলে আমাদের বাড়ির লোকজন তাকে বাধা দেয়। এ খবর পেয়ে সন্ত্রাসী রিমন ও তার সহযোগী রহিম, মহিন, সুজনসহ কয়েকজন একাধিকবার আমাদের বাড়িতে এসে গোলাগুলি করে এবং আমার গর্ভবতী ভাগনির পেটে লাথি দেয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ আমার

ভাগনিকে চিকিৎসা দিতে বলে।তিনি আরো বলেন, মাটি কাটার বিরোধের জেরে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে সন্ত্রাসী রিমনের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সক্রিয় সদস্য রহিম,মহিন,সুজনসহ ১০-১৫ জন অস্ত্রধারী মালকার বাপের দোকান এলাকায় এসে আমাকে গালিগালাজ করে। ঐ সময় আমার মামা জাহের তার শিশুকন্যা জান্নাতকে নিয়ে দোকানে আসেন চিপস আর চকলেট কিনে দেওয়ার জন্য। সন্ত্রাসী রিমন আমার মামাকে আমার দোকানে দেখে মামাকে গালমন্দ করে বলে তোর শেল্টারে এরা এসব করছে।

এ কথা বলার সাথে সাথে আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোঁড়ে এবং জান্নাতকে ইট দিয়ে আঘাত করে। এরপর মামা দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা পিছন থেকে পুনরায় জান্নাতকে এবং মামাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে জান্নাত কানে-মাথায় এবং মামা চোখে গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জান্নাত মারা যায়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment